প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সাদ-সোহেলের নাইট ক্লাবে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত বাফুফের
স্পোর্টস টক বিডি ডেস্ক , সিনিয়র রিপোর্টার ||
ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোলের বড় ব্যবধানে হারের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানার নাইট ক্লাবে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় সমালোচনা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবেন ফেডারেশন সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল।সোমবার ফর্টিজ ডাউনটাউনে জাতীয় দল কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তাবিথ। ফুটবলারদের নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিজেই খতিয়ে দেখবেন। সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে কমিটির কাছে সুপারিশ করবেন।তাবিথের ভাষায়, ‘কিছু ফুটবলারের নামে অভিযোগ এসেছে। ফেসবুকেও ছবি এসেছে। এই ইস্যুটা আমি তদন্ত করব। ফুটবলারদের সঙ্গে আমি বসব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়, কমিটিকে আমি তা সুপারিশ করব।’বৈঠকে আলোচনায় এসেছে অফ সিজনে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন জায়গায় খেপ খেলতে যাওয়ার বিষয়টিও। এর আগে টাঙ্গাইনে কয়েকজন ফুটবলারের খেলার ঘটনা সামনে এলেও তখন সেটি গুরুত্ব পায়নি বলে স্বীকার করেছেন বাফুফে সভাপতি। এবার সেই বিষয়টিও পর্যালোচনা করে খেলোয়াড়দের কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নিতে চায় ফেডারেশন।এ প্রসঙ্গে তাবিথ বলেন, ‘এর আগে কয়েকজন খেলোয়াড় টাঙ্গাইনে খেলেছিল। আমরা ওই সময় ওটা ওভারলুক করেছিলাম। কিন্তু আমরা এখন মনে করছি, সেটাও দেখা দরকার। তাদের কাউন্সেলিং করতে চাই।’এদিকে আসিয়ান কাপে জাতীয় দলের ব্যর্থতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সভায়। দলের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচিং স্টাফ এবং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের কাছে তাদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাবিথ।তিনি বলেন, ‘আমরা আসিয়ান কাপ নিয়ে প্রতিটি বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় এনেছি। আমি নিজেও কমিটির কাছে জবাবদিহি করি। আমরা খেলোয়াড়দের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা বাফুফের পক্ষ থেকে ম্যানেজমেন্টে ছিলেন, তাদের ব্যক্তিগতভাবে আমরা প্রশ্ন করেছি।’জাতীয় দলের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রবাসী ফুটবলার খোঁজার উদ্যোগও নিতে যাচ্ছে বাফুফে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে বছরে দুটি ক্যাম্প ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ফর্টিজের চেয়ারম্যান শাহাদাত ও ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক কমিটির সাত্তারকে দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তা করছে বাফুফে। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও প্রতিভা অন্বেষণ করা হবে।অন্যদিকে অনূর্ধ্ব-২০ দলকে ভবিষ্যতের জাতীয় দলের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ফিফা উইন্ডোতে এই দলের ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দেশের বাইরে ও দেশের মাটিতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হওয়ার কথা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ২৫ অক্টোবর থেকে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ৯ নভেম্বর থেকে ফিফা উইন্ডো শুরু হওয়ায় প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে হামজা চৌধুরীসহ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোনো ক্লাব দল কিংবা দেশের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টাও চালাচ্ছে বাফুফে।
স্পোর্টস টক বিডি - রিপোর্টার
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত Sports Talk BD