ঢাকা   শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Sports Talk BD

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

ব্যাটিং বিপর্যয়ে মিরপুরে চাপে বাংলাদেশ

ব্যাটিং বিপর্যয়ে মিরপুরে চাপে বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনেও আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করতে হয়েছে। তবে আলো কমে আসার আগেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি স্বাগতিক ব্যাটাররা। রস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৫ রানেই ৫ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় দিনের শেষদিকে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে আলোকস্বল্পতা। দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিড মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখন ১০৬ রানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে হাতে থাকা উইকেটের পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। অপরাজিত রয়েছেন জাকের আলী ও নাঈম হাসান। চতুর্থ দিনের সকালে এই দুজনের ব্যাটিংয়ের ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ভাগ্য।

মিরপুরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

চেজের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান। একই ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়। এরপর শান্তকেও ফিরিয়ে দেন চেজ। এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে বাংলাদেশের অধিনায়কের সংগ্রহ ১৬ রান।

প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হকের পরিবর্তে কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নামেন জাকের আলী। এর মধ্যেই বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আম্পায়াররা চা-বিরতির সিদ্ধান্ত নেন।

বিরতি শেষে মাঠে ফিরেই আরেকটি বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন লিটন দাস। তাতে ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ৯ রানেই থামতে হয় মিরাজকে। এরপর নাঈম হাসানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন জাকের। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাংলাদেশের লিড। ওয়ারিকানকে বাউন্ডারি মেরে দলের ব্যবধান একশ ছাড়ান নাঈম। শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতায় আর খেলা না হওয়ায় দিন শেষ হয়।

নাঈম ৩০ বলে ১৮ এবং জাকের ৩২ বলে ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রস্টন চেজ ৩টি এবং জোমেল ওয়ারিকান ২টি উইকেট শিকার করেছেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

দিনের শুরুতে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা ত্যাগনারায়ন চন্দরপল ও ১৫ রানে অপরাজিত জাস্টিন গ্রিভস ব্যাটিং শুরু করেন। শুরু থেকেই উইকেটের খোঁজে থাকা বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন শরিফুল ইসলাম। তার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫৬ রানে বিদায় নেন চন্দরপল।

এরপর রস্টন চেজকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন গ্রিভস। মাঝপথে নাঈম হাসানের বলে চেজের ক্যাচ ছাড়েন মুমিনুল হক। তবে মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন নাঈম। ১০৩ বলে ৪৬ রান করেন এই ব্যাটার। ৬ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিরতির পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে ক্যারিবীয়রা। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে ১৫ রান করে ফেরেন বিশপ। এরপর নাঈম হাসানের স্পিনে একে একে বিদায় নেন শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিকান। শামারকে আউট করার মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাঈম। শেষদিকে জেইডেন সিলসকে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি।

সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য দুই বিপরীত চিত্রের সাক্ষী হয়ে থাকল। প্রথম ইনিংসে বোলারদের দাপটে লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচে নিজেদের অবস্থান কঠিন করে তুলেছে স্বাগতিকরা।

বিষয় : মিরপুর টেস্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট স্পিনার ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ব্যাটিং বিপর্যয়ে মিরপুরে চাপে বাংলাদেশ
0:00 0:00
1.0x
Sports Talk BD

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


ব্যাটিং বিপর্যয়ে মিরপুরে চাপে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনেও আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করতে হয়েছে। তবে আলো কমে আসার আগেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি স্বাগতিক ব্যাটাররা। রস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৫ রানেই ৫ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ।


তৃতীয় দিনের শেষদিকে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে আলোকস্বল্পতা। দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিড মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখন ১০৬ রানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে হাতে থাকা উইকেটের পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। অপরাজিত রয়েছেন জাকের আলী ও নাঈম হাসান। চতুর্থ দিনের সকালে এই দুজনের ব্যাটিংয়ের ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ভাগ্য।


মিরপুরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।


চেজের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান। একই ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়। এরপর শান্তকেও ফিরিয়ে দেন চেজ। এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে বাংলাদেশের অধিনায়কের সংগ্রহ ১৬ রান।


প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হকের পরিবর্তে কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নামেন জাকের আলী। এর মধ্যেই বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আম্পায়াররা চা-বিরতির সিদ্ধান্ত নেন।


বিরতি শেষে মাঠে ফিরেই আরেকটি বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন লিটন দাস। তাতে ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।


সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ৯ রানেই থামতে হয় মিরাজকে। এরপর নাঈম হাসানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন জাকের। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাংলাদেশের লিড। ওয়ারিকানকে বাউন্ডারি মেরে দলের ব্যবধান একশ ছাড়ান নাঈম। শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতায় আর খেলা না হওয়ায় দিন শেষ হয়।


নাঈম ৩০ বলে ১৮ এবং জাকের ৩২ বলে ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রস্টন চেজ ৩টি এবং জোমেল ওয়ারিকান ২টি উইকেট শিকার করেছেন।


এর আগে দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।


দিনের শুরুতে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা ত্যাগনারায়ন চন্দরপল ও ১৫ রানে অপরাজিত জাস্টিন গ্রিভস ব্যাটিং শুরু করেন। শুরু থেকেই উইকেটের খোঁজে থাকা বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন শরিফুল ইসলাম। তার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫৬ রানে বিদায় নেন চন্দরপল।


এরপর রস্টন চেজকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন গ্রিভস। মাঝপথে নাঈম হাসানের বলে চেজের ক্যাচ ছাড়েন মুমিনুল হক। তবে মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন নাঈম। ১০৩ বলে ৪৬ রান করেন এই ব্যাটার। ৬ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


বিরতির পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে ক্যারিবীয়রা। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে ১৫ রান করে ফেরেন বিশপ। এরপর নাঈম হাসানের স্পিনে একে একে বিদায় নেন শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিকান। শামারকে আউট করার মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাঈম। শেষদিকে জেইডেন সিলসকে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি।


সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য দুই বিপরীত চিত্রের সাক্ষী হয়ে থাকল। প্রথম ইনিংসে বোলারদের দাপটে লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচে নিজেদের অবস্থান কঠিন করে তুলেছে স্বাগতিকরা।


Sports Talk BD


কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত Sports Talk BD