আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে আইসিসি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চম অর্থাৎ চলমান চক্রের পরের চক্রেই টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দল এতে অংশ নিতে পারে।
সেক্ষেত্রে বর্তমানে ৯টি দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেললেও তখন দলের সংখ্যা হবে ১২। মূলত টেস্ট খেলুড়ে প্রতিটি দলকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ দেওয়ার ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ আইসিসির।
গণমাধ্যমকে গ্রিনবার্গ বলেন, 'আমি মনে করি, আগামী দুই বছরের জন্য ১২ দলের কাঠামোটিই কার্যকর হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে কেন এই সংখ্যাটি রাখা হচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি। কারণ তারা প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে সুযোগ দিতে চায়।'
তবে কাজটি যে সহজ নয়। আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে টেস্টে অবকাঠামোর দিক থেকে তো বটেই, মানের দিক থেকেও পিছিয়ে। এদিকে আফগানিস্তান তো কখনও নিজের দেশে খেলেনি, খেলতে হয় ভাড়া করা ভেন্যুতে। অজি বোর্ডের শীর্ষ কর্তা জানান, 'শেষপর্যন্ত দেশগুলোকে নিজেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইসিসি থেকে আমরা যে মাত্রায় রাজস্ব পেয়ে আসছি, তা যদি আর অব্যাহত না থাকে কিংবা দেশগুলো নিজেদের এফটিপি থেকে পর্যাপ্ত আয় করতে না পারে, তাহলে যেকোনো ব্যবসার মতো আপনিও প্রতি বছর যত আয় করেন, তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে যেতে পারবেন না।'
টেস্ট খেলা কেন অনেক বোর্ডের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আমি যখন কথাটি বলেছিলাম, তখন সেটি খুব একটা গৃহীত হয়নি। কিন্তু আমি এখনো মনে করি, এটি একটি বাস্তবতা- সময় যত যাচ্ছে, দেশগুলোর জন্য টেস্ট ক্রিকেট খেলা তত কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। শুধু টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের খরচের কথা বলছি না। একজন ক্রিকেটারকে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য তৈরি করতে যে পুরো কাঠামো প্রয়োজন, তাতে বিনিয়োগ করার সক্ষমতার কথাও বলছি। আপনি হঠাৎ করে ১১ জন খেলোয়াড় তৈরি করে টেস্ট ক্রিকেট খেলাতে পারবেন না।'
তাই গ্রিনবার্গের শঙ্কা, একসময় হয়ত অনেক পূর্ণ সদস্য দেশও টেস্ট খেলবে না। বিশেষ করে যাদের প্রতিপক্ষ দলকে নিজেদের মাটিতে আতিথেয়তা দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য থাকবে না।
তিনি জানান, 'এমন একটা সময় আসতে পারে, যেখানে কিছু সদস্য দেশ হয়ত আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবে না। অথবা টেস্ট ক্রিকেটকে নিজেদের দেশে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের ঘরের মাঠের চেয়ে বেশি বিদেশে টেস্ট খেলতে হতে পারে। আমাদের বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। পারস্পরিকভাবে সিরিজ আয়োজনের এই কাঠামোই হয়তো কিছু দেশকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।'
শেষপর্যন্ত জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আনলে এক ম্যাচের 'সিরিজ' দেখা যেতে পারে। যেখানে বর্তমানে প্রতি সিরিজে অন্তত এক জোড়া ম্যাচ খেলে দলগুলো।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে আইসিসি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চম অর্থাৎ চলমান চক্রের পরের চক্রেই টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দল এতে অংশ নিতে পারে।
সেক্ষেত্রে বর্তমানে ৯টি দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেললেও তখন দলের সংখ্যা হবে ১২। মূলত টেস্ট খেলুড়ে প্রতিটি দলকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ দেওয়ার ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ আইসিসির।
গণমাধ্যমকে গ্রিনবার্গ বলেন, 'আমি মনে করি, আগামী দুই বছরের জন্য ১২ দলের কাঠামোটিই কার্যকর হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে কেন এই সংখ্যাটি রাখা হচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি। কারণ তারা প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে সুযোগ দিতে চায়।'
তবে কাজটি যে সহজ নয়। আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে টেস্টে অবকাঠামোর দিক থেকে তো বটেই, মানের দিক থেকেও পিছিয়ে। এদিকে আফগানিস্তান তো কখনও নিজের দেশে খেলেনি, খেলতে হয় ভাড়া করা ভেন্যুতে। অজি বোর্ডের শীর্ষ কর্তা জানান, 'শেষপর্যন্ত দেশগুলোকে নিজেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইসিসি থেকে আমরা যে মাত্রায় রাজস্ব পেয়ে আসছি, তা যদি আর অব্যাহত না থাকে কিংবা দেশগুলো নিজেদের এফটিপি থেকে পর্যাপ্ত আয় করতে না পারে, তাহলে যেকোনো ব্যবসার মতো আপনিও প্রতি বছর যত আয় করেন, তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে যেতে পারবেন না।'
টেস্ট খেলা কেন অনেক বোর্ডের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আমি যখন কথাটি বলেছিলাম, তখন সেটি খুব একটা গৃহীত হয়নি। কিন্তু আমি এখনো মনে করি, এটি একটি বাস্তবতা- সময় যত যাচ্ছে, দেশগুলোর জন্য টেস্ট ক্রিকেট খেলা তত কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। শুধু টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের খরচের কথা বলছি না। একজন ক্রিকেটারকে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য তৈরি করতে যে পুরো কাঠামো প্রয়োজন, তাতে বিনিয়োগ করার সক্ষমতার কথাও বলছি। আপনি হঠাৎ করে ১১ জন খেলোয়াড় তৈরি করে টেস্ট ক্রিকেট খেলাতে পারবেন না।'
তাই গ্রিনবার্গের শঙ্কা, একসময় হয়ত অনেক পূর্ণ সদস্য দেশও টেস্ট খেলবে না। বিশেষ করে যাদের প্রতিপক্ষ দলকে নিজেদের মাটিতে আতিথেয়তা দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য থাকবে না।
তিনি জানান, 'এমন একটা সময় আসতে পারে, যেখানে কিছু সদস্য দেশ হয়ত আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবে না। অথবা টেস্ট ক্রিকেটকে নিজেদের দেশে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের ঘরের মাঠের চেয়ে বেশি বিদেশে টেস্ট খেলতে হতে পারে। আমাদের বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। পারস্পরিকভাবে সিরিজ আয়োজনের এই কাঠামোই হয়তো কিছু দেশকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।'
শেষপর্যন্ত জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আনলে এক ম্যাচের 'সিরিজ' দেখা যেতে পারে। যেখানে বর্তমানে প্রতি সিরিজে অন্তত এক জোড়া ম্যাচ খেলে দলগুলো।

মতামত