ঢাকা   শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Sports Talk BD

২০১৯ সালের স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ

সাত বছর—সময়টা কম নয়। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছে অনেক উত্থান-পতন। যোগ হয়েছে অসংখ্য জয়-পরাজয়ের গল্প, পূরণ হয়েছে কিছু স্বপ্ন, আবার ভেঙেছেও অনেক প্রত্যাশা। পাল্টেছে দলের নেতৃত্ব, বদলেছে খেলোয়াড়দের মুখ। কিন্তু একটি অপেক্ষা আজও শেষ হয়নি—ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতে শিরোপা উদ্‌যাপনের অপেক্ষা।বাংলাদেশের পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দলের ট্রফির তালিকায় ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা বলতে এখনো সেই একটিই। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর আর কোনো ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে অংশ নেওয়া হয়নি তাদের।দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই মঞ্চে ফিরছে বাংলাদেশ। আজ আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে তিন জাতির ওয়ানডে লড়াই। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে লিটন দাসের দল। সিরিজের অন্য দল আফগানিস্তান।প্রতিপক্ষ বিবেচনায় শিরোপার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক অতীত খুব বেশি স্বস্তি দিচ্ছে না। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এর আগে গত অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছিল। সেই ব্যর্থতায় সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও একসময় শঙ্কার মুখে পড়েছিল।সেই ধাক্কা সামলে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে থেকে আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত করেছে দলটি। যদিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হার সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ টেনেছে।এর মধ্যে দলের নেতৃত্বেও এসেছে পরিবর্তন। মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে আগামী বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন লিটন দাস।ব্যাটিংয়ের পুরোনো সমস্যাগুলোও কিছুটা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে লিটনকে চার নম্বরে খেলানোর সিদ্ধান্তে ব্যাটিং লাইনআপে এসেছে স্থিতিশীলতা। লিটনের নিজের প্রত্যাবর্তনও কম নাটকীয় নয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ছয় ওয়ানডেতে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ৬ রান। এরপর প্রায় এক বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। তবে ফিরে চলতি বছর নয় ম্যাচে করেছেন ৩০০ রান।বর্তমানে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারকে দিয়ে ইনিংস শুরু করাচ্ছে বাংলাদেশ। এরপর যথাক্রমে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের ওপর থাকছে দায়িত্ব। নিচের দিকে আছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ের কাঠামো আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো।বোলিং বিভাগে পেসারদের আধিক্য বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক। বরং একাদশে কাকে সুযোগ দেওয়া হবে, সেটিই এখন নির্বাচকদের বড় চ্যালেঞ্জ। এশিয়ান গেমসে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে টানা দুই ম্যাচে ভালো করতে না পারায় অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গাও নিশ্চিত নয়। তাঁকে বাইরে রেখেও হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়তে পারে বাংলাদেশ।তবে স্পিন বিভাগে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। অফ স্পিনার হিসেবে মিরাজের খেলা প্রায় নিশ্চিত হলেও তাঁর সঙ্গে কে থাকবেন, তা নিয়ে আলোচনা আছে। বাঁহাতি স্পিনারের পরিবর্তে রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামকে খেলানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে বাঁহাতি স্পিনারদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় একাদশে আলিসের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি।তবে দল সাজানোর হিসাব-নিকাশের বাইরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জিম্বাবুয়েকে সামলানো। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন দলটিকে কোনোভাবেই সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই।সর্বশেষ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই করেছে জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, ম্যাচটি তারা জিতেছে মাত্র এক উইকেটের ব্যবধানে। এমন লড়াকু দল যে কোনো সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাসও সঙ্গে নিয়ে আবুধাবিতে নামবে জিম্বাবুয়ে। ফলে লিটনদের জন্য কাজটা মোটেও সহজ হবে না।এদিকে সিরিজের ফরম্যাটও বাড়তি সতর্কতা দাবি করছে। তিন দলের প্রত্যেকেই একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল উঠবে ফাইনালে। ফলে শুরুতেই পয়েন্ট হারালে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে বাংলাদেশকে।২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে যে শিরোপা উৎসবের সূচনা হয়েছিল, সাত বছর পর আবুধাবিতে কি তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবে বাংলাদেশ? লিটনদের সামনে এখন সেই পুরোনো আনন্দ ফিরিয়ে আনার নতুন সুযোগ।

২০১৯ সালের স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ