ঢাকা   শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
Sports Talk BD

স্যান্ডপেপার কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন উসমান খাজা

কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় আট বছরেরও বেশি সময় পর নতুন করে মুখ খুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার উসমান খাজা। তার দাবি, ২০১৮ সালের সেই ঘটনায় স্যান্ডপেপার ব্যবহারের বিষয়টি দলের প্রায় সবাই জানতেন। এমনকি কেপটাউন টেস্টের আগের ম্যাচেও বল বিকৃতির জন্য স্যান্ডপেপার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।খাজার এই বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার চার পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও স্পিনার নাথান লায়নের ২০২১ সালের যৌথ বিবৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই বিবৃতিতে বল টেম্পারিংয়ের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তারা।সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা বলেন, ‘আমরা সবাই বিষয়টি জানতাম। শুধু ব্যাটার, বোলার কিংবা সাপোর্ট স্টাফ নয়, দলের সবাই জানত।’ শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাওয়া নিজের আত্মজীবনী ‘সবর’-এও এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন তিনি।২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে প্যান্টের ভেতরে স্যান্ডপেপার লুকিয়ে রাখতে দেখা যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ স্বীকার করেন, দলের নেতৃত্বস্থানীয় একটি অংশ বল বিকৃতির পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল। এর জেরে স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য এবং ব্যানক্রফটকে নয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি স্মিথের ওপর আরও এক বছর নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।ওয়ার্নারের ক্ষেত্রে আজীবন অধিনায়কত্বের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও ২০২৪ সালে তা প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে সিডনি থান্ডারের অধিনায়কত্বও পান তিনি।খাজা জানিয়েছেন, ঘটনার পর ড্রেসিংরুমে তিনি দলের অন্য সদস্যদের বলেছিলেন, দায়ভার শুধু স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে পুরো দলেরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। কারণ, তার মতে, এটি ছিল সম্মিলিতভাবে করা একটি কাজ।এ বিষয়ে খাজা বলেন, ‘আমি কখনোই সামনে এসে সত্য প্রকাশ করতে চাইনি। কিন্তু ভেবেছিলাম, আট বছর পার হওয়ার পর এত দিনে সত্যটা সবার সামনে আসবে। হয়তো ডেভিড ওয়ার্নার কিংবা অন্য কেউ এ নিয়ে কথা বলবে। বিষয়টি এত দূর গড়াবে, তা কখনো ভাবিনি। তবে এত বছর পর এখন এই ঘটনার দায় সবার সম্মিলিতভাবে নেওয়া উচিত।’তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে সবার সঙ্গে কথা বলার সময়ও আমি বলেছিলাম, পুরো দলকে এর দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা দল হিসেবেই কাজটি করেছিলাম। কী ঘটছে, তা সবাই জানত। তাই শুরু থেকেই আমার অবস্থান ছিল, দায়ভারও পুরো দলের নেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং ওই তিনজনকে একা দায়ী করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।’স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে খাজা বলেন, তাদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তিতে ছিলেন। তার মতে, ক্রিকেটের বাইরেও মানুষের জীবন অনেক বড় এবং ওই তিন ক্রিকেটারের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত।খাজার ভাষায়, ‘আমার কাছে ক্রিকেটের চেয়ে জীবনের গুরুত্ব অনেক বেশি। আমি মনে করি, ওই খেলোয়াড়দের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কেউ তাদের সেই ন্যায়বিচার দেবে বলে মনে হচ্ছে না। তাদের কেউই নিজেরা প্রথমে মুখ খুলতে চাইছেন না।’বল টেম্পারিংয়ের ঘটনার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তদন্ত শুরু করলেও খাজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি। বিষয়টি তাকে অবাক করেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ, পুরো টেস্ট ম্যাচে ব্যানক্রফটের পাশেই বসেছিলেন খাজা।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুরো টেস্ট ম্যাচজুড়ে আমি ক্যামেরন ব্যানক্রফটের পাশে বসেছিলাম। অথচ আমাকে কোনো সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি। আমার বিশ্বাস, তারা জানত আমি বিষয়টিকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখব। আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আমি সত্যটাই বলতাম।’নিজের আত্মজীবনীতে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা নিয়ে খোলামেলা লেখার আগে বর্তমান অস্ট্রেলিয়া টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন খাজা। তাকে জানিয়েছিলেন, বইটিতে এই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।অ্যাশেজ সিরিজের পর চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো খাজা মনে করেন, এই ঘটনা নিয়ে সত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত।তিনি বলেন, ‘আমার বই পড়লে বুঝতে পারবেন, বারবার বলেছি এটি পুরো দলের বিষয়। শুধু স্টিভ, ডেভিড কিংবা ক্যামেরন ব্যানক্রফটের দায় ছিল না; আমরা সবাই এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম। দিনশেষে আমার মনে হয়েছে, সত্যটা তুলে ধরাই সঠিক সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে ওই তিন ক্রিকেটারের জন্য। আমার ধারণা, দলের অধিকাংশ সদস্যই এখন স্বস্তি পাবেন। অবশেষে আমরা এই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’

স্যান্ডপেপার কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন উসমান খাজা