ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Sports Talk BD

ফাইনালের স্বপ্ন দেখলেও নিজেদের নিয়ে এখনো সন্তুষ্ট নন শান্ত

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থেকে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় সেই আশাকে আরও জোরালো করেছে। চলমান চক্রে ইতোমধ্যে টেস্টে নিজেদের সেরা সাফল্য অর্জন করেছে টাইগাররা। তবে এই অর্জনেই তৃপ্ত হতে রাজি নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিশ্বাস, টেস্ট ক্রিকেটে আরও পরিণত দল হয়ে উঠতে বাংলাদেশের সামনে অনেক পথ বাকি। ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবতা মাথায় রেখেই এগোতে চান তিনি।চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তিন জয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ পয়েন্ট। ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে দলটি। ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে থাকতে হবে শীর্ষ দুইয়ে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুই টেস্ট এবং নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। অর্থাৎ, ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে সামনে প্রতিটি ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে।ফাইনালে ওঠার হিসাবকে অবশ্য চাপ হিসেবে নিচ্ছেন না শান্ত। বরং এমন সম্ভাবনা দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ আমার কাছে চাপের চেয়ে বেশি অনুপ্রেরণার। আমরা বাড়তি কিছু করতে চাই না, নিজেদের স্বাভাবিক পথটাই অনুসরণ করতে চাই। আমরা যেটা পারি, সেটায় শতভাগ দিতে চাই।’সাফল্যের ধারায় থাকলেও নিজেদের নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, সাম্প্রতিক অর্জনগুলো ইতিবাচক হলেও টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার জায়গায় আরও উন্নতি প্রয়োজন। দলের সামর্থ্যের ওপর আস্থা থাকলেও এখনই নিজেদের পরিণত দল হিসেবে দেখতে চান না তিনি। শান্ত বলেন, ‘আমরা এখনো খুব বেশি অভিজ্ঞ দল হয়ে উঠিনি। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা যেভাবে ভাবছি, তাতে এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আমাদের পা মাটিতেই আছে। দলগতভাবে আমরা অনেক দূর যেতে পারি এবং সেই সামর্থ্য আমাদের আছে।’দূর ভবিষ্যতের হিসাব না কষে আপাতত একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ। পুরো সিরিজের ফলাফল কিংবা ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচ ও সেশনে নিজেদের সেরাটা দিতে চান শান্তরা। ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের। এ প্রসঙ্গে শান্তর বক্তব্য, ‘আমরা শুধু সামনের একটি টেস্ট ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। এমনকি পুরো সিরিজ নিয়েও অত ভাবছি না। দল হিসেবে শুধু একটা ম্যাচ বা একটা সেশন কীভাবে খেলতে হবে, সেটা নিয়ে ভাবছি। ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে এগোলে ফলাফল আপনাআপনি আসবে।’দেশের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন শান্ত। তবে এই অগ্রগতিকে কেবল সাম্প্রতিক কয়েকটি জয়ের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করতে নারাজ তিনি। গত দুই-তিন বছরে দলের মধ্যে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেটিই সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি বলে মনে করেন অধিনায়ক। এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মাঠে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।বুধবার মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়ে বাংলাদেশের সামনে শুরু হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এই সিরিজে ভালো ফলের বিকল্প নেই। স্বপ্ন বড় হলেও শান্তদের আপাতত লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।

ফাইনালের স্বপ্ন দেখলেও নিজেদের নিয়ে এখনো সন্তুষ্ট নন শান্ত