ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসানোর পথ তৈরি করেছেন তাওহীদ হৃদয়। তাঁর রেকর্ডগড়া ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচ শেষে হৃদয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।৩৫৯ বল মোকাবিলায় ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। একসময় ১৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৩০ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে সিমন্স জানান, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করেছেন এই তরুণ। শেষ দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও তাঁর লড়াকু মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো।দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিমন্স বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ একটি ইনিংস। ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও যেভাবে বাউন্ডারি ও ছক্কা আদায় করেছে, তা অবিশ্বাস্য।”তিনি আরও বলেন, “কোন পরিস্থিতিতে কোন শট খেলতে হবে এবং শেষ তিন ব্যাটারকে কখন স্ট্রাইক দিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে হৃদয় দারুণ ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। পুরো ইনিংসজুড়েই তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।”ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি হৃদয়। ওই ম্যাচে কয়েকটি দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলার কারণে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তবে সিলেটে ব্যাট হাতে তার জবাব দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।সিমন্সের বিশ্বাস, টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুত নিজেকে পরিণত করছেন হৃদয়। দ্বিতীয় টেস্টেই তাঁর ভুলত্রুটি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা ঠিক নয় বলে মনে করেন কোচ।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঢাকায় সে দু-একটি বাজে শট খেলেছিল, এটা সত্যি। তবে সেটি ছিল তার মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট। তাই ওই ভুলের জন্য তাকে দোষারোপ করা যায় না। আমার মনে হয়, সে দ্রুত পরিণত হচ্ছে। আজকের ইনিংসেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হৃদয়কে আলাদা করে কোনো নির্দেশনা দেননি বলেও জানিয়েছেন সিমন্স। তাঁর মতে, মাঠে নেমে যাওয়ার পর নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই বুঝে নিতে হয় ব্যাটারদের।কোচের ভাষায়, “একজন ব্যাটার যখন ক্রিজে থাকে, তখন কীভাবে খেলতে হবে সে বিষয়ে বাইরে থেকে বার্তা পাঠানো সম্ভব নয়। মাঠে প্রবেশ করার পর দায়িত্বটা তাদের নিজেদেরই নিতে হয়।”হৃদয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলায় তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদেরও প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ। বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের সঙ্গে ক্রিজে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, এই দুই বোলার সেটি ভালোভাবেই বাস্তবায়ন করেছেন বলে জানান তিনি।এদিকে দলের ওপেনার সাদমান ইসলাম চোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিমন্স। শুক্রবার তাঁকে হুইলচেয়ারে করে মাঠের বাইরে নিতে হয়। তবে দুই দিনের বিশ্রামে সাদমান সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী কোচ। বাংলাদেশের ইনিংসে তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন না হওয়ায় স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন তিনি।অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে দলের তিন স্পিনার আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সিমন্স। বাংলাদেশ একজন পেসার কম নিয়ে খেলেছে—এমন ধারণার সঙ্গেও একমত নন তিনি।কোচের মতে, ঢাকা টেস্ট ও সিলেটে প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা এখনো নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দেখাতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে সুযোগ পেলে তাঁরা নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন বলে আশাবাদী সিমন্স।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।