মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানো ফুটবলে নতুন কিছু নয়। অনেক সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখেন খেলোয়াড়েরা। তবে এবার এমন আচরণের মাশুল দিতে হলো ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রকে। মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড।ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ‘ভিনি জুনিয়র প্রটোকল’ লঙ্ঘনের অভিযোগে নেইমারকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ক্রীড়া বিচারবিষয়ক সর্বোচ্চ আদালত এসটিজেডির শৃঙ্খলা কমিটি। আজ শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে নেইমারের ক্লাব সান্তোসের।ঘটনাটি ব্রাজিলিয়ান লিগের ৩২তম রাউন্ডে সান্তোস ও বাহিয়ার ম্যাচে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে বাহিয়ার ফুটবলার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান নেইমার। একপর্যায়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলেন তিনি। এর পরই ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নামে পরিচিত নিয়মের আওতায় নেইমারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।লাল কার্ড দেখেও উত্তেজনা সামলাতে পারেননি নেইমার। ম্যাচের অফিশিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, নেস্তরের মুখোমুখি হতে বাহিয়ার বেঞ্চের দিকে এগিয়ে যান তিনি। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।এ ঘটনায় ব্রাজিলের ক্রীড়া বিচারবিধির ১৯১ নম্বর অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় ধারায় নেইমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করাকে এই ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শৃঙ্খলা কমিটির মতে, নেইমারের আচরণ ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ‘ভিনি জুনিয়র প্রটোকল’-এর ৭ নম্বর বিধানের পরিপন্থী। বর্ণবাদী মন্তব্য কিংবা আপত্তিকর কথাবার্তা আড়াল করতে মুখ ঢেকে কথা বলার প্রবণতা রোধ করতেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।আগের লাল কার্ডের কারণে এমনিতেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ছিল নেইমারের। এর সঙ্গে নতুন করে দুই ম্যাচের শাস্তি যুক্ত হওয়ায় সব মিলিয়ে সান্তোসের হয়ে পরবর্তী তিন ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না তিনি।এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নভেম্বরে ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ার পরও একটি ম্যাচে দলের বাইরে থাকতে হবে নেইমারকে। তবে সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে লিগের শেষ তিন রাউন্ডে তাঁকে আবারও দলে পেতে পারেন সান্তোসের কোচ কুকা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।