ঘরের মাঠে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো দেশের জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে আলোচনায় এসেছিল ভারত। তবে এই ম্যাচগুলো আয়োজন করতে গিয়ে এবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। ঘাটতি পূরণে ফেডারেশনের স্থায়ী আমানত (এফডি) ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। যদিও সদস্যদের বিরোধিতায় এখনই সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হচ্ছে না।ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার অনলাইনে অনুষ্ঠিত এআইএফএফের বিশেষ সাধারণ সভায় (এসজিবিএম) স্থায়ী আমানত ভেঙে ম্যাচ আয়োজনের খরচ মেটানোর প্রস্তাব দেন চৌবে। কিন্তু সভায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যই এ উদ্যোগের বিপক্ষে অবস্থান নেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি রাজ্য ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ঘাটতি পূরণে এফডি ভাঙার কথা বলেছেন চৌবে। পরে তিনি আশ্বাস দেন, অন্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে স্থায়ী আমানত থেকে নেওয়া টাকা আবার জমা দেবেন। তবে ফেডারেশনের মোট আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ সভায় স্পষ্ট করা হয়নি। চুক্তির গোপনীয়তার শর্তের কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।এ প্রস্তাবে আপত্তি জানান এআইএফএফের সহসভাপতি এনএ হারিস। তাঁর মতে, নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী আমানত ভাঙার সুযোগ নেই। সভায় অন্য সদস্যরাও মত দেন, বিশেষ জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এই তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা ঠিক হবে না।ধারণা করা হচ্ছে, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ আয়োজন করতে ভারতীয় ফেডারেশনের ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। অথচ এর আগে কল্যাণ চৌবে দাবি করেছিলেন, ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য ফেডারেশনকে কোনো আর্থিক দায় নিতে হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এফডি ভাঙার প্রস্তাব তাঁর আগের বক্তব্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলেন এআইএফএফের সাবেক সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলও। আগের বিশেষ সাধারণ সভায় চৌবে বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে পাওনাদারদের মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং সেই অর্থ দেওয়ার সময়সীমা কী, তা সদস্যদের কাছে পরিষ্কার করার দাবি জানান প্যাটেল।আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, হারিস সাধারণ পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। এরপর স্থায়ী আমানত ভেঙে পাওনা পরিশোধের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আবারও নির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপন করা হবে।এদিকে আর্থিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ফেডারেশনের বিভিন্ন চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন, ফুটবলের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সন্তোষ ট্রফি পরিচালনা কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সদস্য।এ বিষয়ে কল্যাণ চৌবের বক্তব্য জানতে চাইলে পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘এটি অভ্যন্তরীণ সভা ছিল। এ বিষয়ে বাইরে বলার কিছু নেই।’
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।