সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১৫ দিন। দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপাখরা কাটানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চান অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তাঁর বিশ্বাস, বর্তমান দলটির শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রয়েছে।সম্প্রতি গোপীবাগের ব্রাদার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে নিজের ব্যক্তিগত ও দলীয় লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন জামাল। জানিয়েছেন, ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে খেলার সুযোগই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।সর্বশেষ ঘরোয়া লিগের ম্যাচে গোল পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে আপাতত লিগের শেষ ম্যাচেই মনোযোগ তাঁর। এরপরই পুরোপুরি সাফের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে চান।২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামাল। তাঁর মতে, বর্তমান স্কোয়াডের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে সাফে ভালো করতে হলে প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিজেদের ভুলগুলোও শুধরে নিতে হবে। বিশেষ করে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ভালো প্রস্তুতি প্রয়োজন।এর আগে আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-১ গোলের বড় পরাজয় নিয়ে কথা বলেছেন জামাল। সেই হার খেলোয়াড়দেরও হতবাক করেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অতীতের হতাশা নিয়ে পড়ে না থেকে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অধিনায়ক।ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধাকেই সাফে বাংলাদেশের বড় শক্তি মনে করছেন জামাল। তাঁর প্রত্যাশা, দর্শকে পরিপূর্ণ গ্যালারি থেকে পাওয়া সমর্থন দলকে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে স্বাগতিক হিসেবে ভালো ফলের প্রত্যাশা ও চাপ সামলানোর চ্যালেঞ্জও থাকবে বলে মনে করেন তিনি।জাতীয় দলের দুই কোচ টমাস ডুলি ও হাভিয়ের কাবরেরার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছেন জামাল। তাঁর মতে, কাবরেরা তুলনামূলক বেশি কথা বলেন। অন্যদিকে, খেলোয়াড়ি জীবনে বিশ্বকাপ ও বুন্দেসলিগা জয়ের অভিজ্ঞতা থাকায় ডুলির কাছ থেকেও শেখার অনেক কিছু রয়েছে।নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও ইতিবাচক থাকতে চান জামাল। মাঠে আগের মতো নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেলেও ক্যারিয়ারের শেষটা স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি। ২০২৬ সালের সাফে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করাতে পারলে সেটি হবে তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তাঁর মতে, হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের মতো খেলোয়াড়দের আগমন দলের শক্তি বাড়িয়েছে। তবে শুধু প্রবাসীদের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় প্রতিভাদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দুই ধরনের খেলোয়াড়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।প্রবাসী ফুটবলারদের সঙ্গে স্থানীয়দের পার্থক্য প্রসঙ্গে জামাল জানিয়েছেন, মূল ব্যবধান দক্ষতার চেয়ে মানসিকতা ও সুযোগ-সুবিধায়। বিদেশে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়েরা উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় তাঁদের অভিজ্ঞতা জাতীয় দলে কাজে লাগতে পারে।সবশেষে সাফ জিতলে উদ্যাপনের প্রসঙ্গেও মজার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শমিত সোমের নাচ তাঁর সবচেয়ে পছন্দের উদ্যাপন বলে জানিয়েছেন জামাল। এবার শিরোপা জিততে পারলে তাঁর নিজেরও বিশেষ উদ্যাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবার আগে ভালো ফুটবল খেলে জয় নিশ্চিত করতে চান তিনি।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।