প্রথম রাউন্ডে ড্র দিয়ে শুরু করা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর দ্বিতীয় রাউন্ডে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। মিম মোসাদ্দেকের ১৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং ইকবাল হোসেনের ৭৮ রানের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছে দলটি। সিলেটে প্রথম দিনের খেলা শেষে ৬ উইকেটে ৩৭০ রান করেছে রংপুর। অন্যদিকে, কক্সবাজারে হাসান মুরাদের চার উইকেটে ২৮২ রানে থেমেছে বরিশালের ইনিংস। জবাবে বিনা উইকেটে ৭২ রান তুলে দিন শেষ করেছে চট্টগ্রাম।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর। দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মোসাদ্দেক শুরু থেকেই রান তোলার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ১৬ রানে ১৬ রান করা অনিককে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন ময়মনসিংহের আসাদুল্লাহ হিল গালিব।
এরপর ইকবাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরের ইনিংস শক্তিশালী করেন মিম। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ব্যাটে আসে ২০৮ রানের বিশাল জুটি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন ইকবাল। অন্যদিকে, ১৩৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিম, যা তাঁর ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক।
দলীয় সংগ্রহে বড় অবদান রাখা ইকবালকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আল আমিন জুনিয়র। মাহফিজুল ইসলাম রবিনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৪৭ বলে ৭৮ রান করেন তিনি। তবে নিজের দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রেখে দেড়শ রান পূর্ণ করেন মিম। শেষ পর্যন্ত ২১২ বলে ২৩টি চারে ১৫৭ রান করে আজিজুল হাকিম রনির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর আবদুল্লাহ আল মামুনের ব্যাটে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬১ রান। ৮৮ বলের ইনিংসটিতে তিনি মারেন ৮টি চার ও একটি ছক্কা। অধিনায়ক আকবর আলী করেন ৪২ বলে ৩০ রান। তবে দিনের শেষ ভাগে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে রংপুর। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৭০ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ময়মনসিংহের হয়ে গালিব ও রনি দুটি করে উইকেট নেন।
কক্সবাজার একাডেমি মাঠে দিনের অন্য ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বরিশাল। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই মাত্র ২ রান করা ইফতেখার ইফতিকে ফিরিয়ে দেন এনামুল হক আশিক।
দ্বিতীয় উইকেটে রাফসান আল মাহমুদকে নিয়ে ৫০ রানের জুটি গড়েন জাওয়াদ আবরার। তবে ১৮ রান করে আহমেদ শরিফের বলে আউট হন রাফসান। এরপর নিজের ১৩তম প্রথম শ্রেণির অর্ধশতক তুলে নেন জাওয়াদ। ৮২ বলে ৮টি চার ও দুটি ছক্কায় ৬৩ রান করে আশরাফুল হাসানের বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
পরের দিকে বরিশালের ইনিংসের হাল ধরেন হাফিজুর রহমান ও মইন খান। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ৯৯ রান। ৮২ বলে ৪৪ রান করা হাফিজকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান মুরাদ।
এরপর সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান মইন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৯৭ রানে তাঁকে ফিরিয়ে বড় ইনিংসের সম্ভাবনা শেষ করে দেন মুরাদ। মইনের বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ২৮২ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
চট্টগ্রামের হয়ে হাসান মুরাদ চারটি উইকেট নেন। এ ছাড়া আহমেদ শরিফ ও রুবেল শিকার করেন দুটি করে উইকেট।
বরিশালের ইনিংসের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করেছে চট্টগ্রাম। দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান মিলে ১২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেন ৭২ রান। ৩৩ বলে ৪১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন সাদিকুর, অন্যদিকে ২৯ রান নিয়ে ক্রিজে রয়েছেন জয়। দ্বিতীয় দিনে এই জুটি থেকেই বড় সংগ্রহের প্রত্যাশা করবে চট্টগ্রাম।
বিষয় : এনসিএল

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম রাউন্ডে ড্র দিয়ে শুরু করা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর দ্বিতীয় রাউন্ডে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। মিম মোসাদ্দেকের ১৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং ইকবাল হোসেনের ৭৮ রানের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছে দলটি। সিলেটে প্রথম দিনের খেলা শেষে ৬ উইকেটে ৩৭০ রান করেছে রংপুর। অন্যদিকে, কক্সবাজারে হাসান মুরাদের চার উইকেটে ২৮২ রানে থেমেছে বরিশালের ইনিংস। জবাবে বিনা উইকেটে ৭২ রান তুলে দিন শেষ করেছে চট্টগ্রাম।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর। দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মোসাদ্দেক শুরু থেকেই রান তোলার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ১৬ রানে ১৬ রান করা অনিককে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন ময়মনসিংহের আসাদুল্লাহ হিল গালিব।
এরপর ইকবাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরের ইনিংস শক্তিশালী করেন মিম। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ব্যাটে আসে ২০৮ রানের বিশাল জুটি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন ইকবাল। অন্যদিকে, ১৩৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিম, যা তাঁর ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক।
দলীয় সংগ্রহে বড় অবদান রাখা ইকবালকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আল আমিন জুনিয়র। মাহফিজুল ইসলাম রবিনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৪৭ বলে ৭৮ রান করেন তিনি। তবে নিজের দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রেখে দেড়শ রান পূর্ণ করেন মিম। শেষ পর্যন্ত ২১২ বলে ২৩টি চারে ১৫৭ রান করে আজিজুল হাকিম রনির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর আবদুল্লাহ আল মামুনের ব্যাটে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬১ রান। ৮৮ বলের ইনিংসটিতে তিনি মারেন ৮টি চার ও একটি ছক্কা। অধিনায়ক আকবর আলী করেন ৪২ বলে ৩০ রান। তবে দিনের শেষ ভাগে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে রংপুর। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৭০ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ময়মনসিংহের হয়ে গালিব ও রনি দুটি করে উইকেট নেন।
কক্সবাজার একাডেমি মাঠে দিনের অন্য ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বরিশাল। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই মাত্র ২ রান করা ইফতেখার ইফতিকে ফিরিয়ে দেন এনামুল হক আশিক।
দ্বিতীয় উইকেটে রাফসান আল মাহমুদকে নিয়ে ৫০ রানের জুটি গড়েন জাওয়াদ আবরার। তবে ১৮ রান করে আহমেদ শরিফের বলে আউট হন রাফসান। এরপর নিজের ১৩তম প্রথম শ্রেণির অর্ধশতক তুলে নেন জাওয়াদ। ৮২ বলে ৮টি চার ও দুটি ছক্কায় ৬৩ রান করে আশরাফুল হাসানের বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
পরের দিকে বরিশালের ইনিংসের হাল ধরেন হাফিজুর রহমান ও মইন খান। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ৯৯ রান। ৮২ বলে ৪৪ রান করা হাফিজকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান মুরাদ।
এরপর সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান মইন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৯৭ রানে তাঁকে ফিরিয়ে বড় ইনিংসের সম্ভাবনা শেষ করে দেন মুরাদ। মইনের বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ২৮২ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
চট্টগ্রামের হয়ে হাসান মুরাদ চারটি উইকেট নেন। এ ছাড়া আহমেদ শরিফ ও রুবেল শিকার করেন দুটি করে উইকেট।
বরিশালের ইনিংসের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করেছে চট্টগ্রাম। দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান মিলে ১২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেন ৭২ রান। ৩৩ বলে ৪১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন সাদিকুর, অন্যদিকে ২৯ রান নিয়ে ক্রিজে রয়েছেন জয়। দ্বিতীয় দিনে এই জুটি থেকেই বড় সংগ্রহের প্রত্যাশা করবে চট্টগ্রাম।

মতামত