ঢাকা   বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
Sports Talk BD

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা সিমন্সের

দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা সিমন্সের
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ডারউইনে সেই সাফল্যের পর থেকে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে না বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতায় ৮ উইকেটের বড় হার দেখতে হয়েছে টাইগারদের। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সেই মানে আবারও ফিরে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তাঁর মতে, অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করলেও ম্যাচে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন না ক্রিকেটাররা।

আগামীকাল সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে হেরে যাওয়ায় সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। সে জন্য ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামলাতে যেমন হিমশিম খেয়েছেন ব্যাটাররা, তেমনি ক্রিজে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতেও পারেননি তাঁরা।

সিমন্সের মতে, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ যে মানসিক দৃঢ়তা ও ব্যাটিং দক্ষতা দেখিয়েছিল, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শুধু টেস্ট ক্রিকেটেই নয়, অন্য ফরম্যাটেও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ডারউইনের পর থেকে দল ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটাররা প্রমাণ করেছিলেন, প্রয়োজনীয় মানসিক দৃঢ়তা ও দক্ষতা থাকলে ভালো ব্যাটিং করা সম্ভব। কিন্তু এরপর যে ফরম্যাটেই খেলেছেন, সেখানে সেই মান ধরে রাখতে পারেননি তাঁরা।

ব্যাটিংয়ের এই সংকট কাটাতে অনুশীলনের ধরন বদলানোর প্রয়োজন দেখছেন না সিমন্স। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়া সফর কিংবা পাকিস্তান সিরিজের আগে ক্রিকেটাররা যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, এখনো একই নিষ্ঠা ও পরিশ্রম নিয়ে অনুশীলন করছেন। সমস্যা হচ্ছে, অনুশীলনে অর্জিত দক্ষতা ম্যাচের পরিস্থিতিতে কাজে লাগাতে পারছেন না তাঁরা। তাই মাঠের বাইরের প্রস্তুতিকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

সিমন্সের ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ায় জয়ের মতো পারফরম্যান্স আবারও করা বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব কিছু নয়। ক্রিকেটাররা আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছেন। তবে ম্যাচে সেই পরিশ্রমের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতার দায়ও এড়িয়ে যেতে চান না বাংলাদেশ কোচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ভালো করেছেন, তা মেনে নিয়েও নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করছেন তিনি। প্রতিপক্ষের বোলিংকে অজুহাত না বানিয়ে কীভাবে তাদের মোকাবিলা করে রান করা যায়, সেটি খুঁজে বের করার ওপর জোর দিচ্ছেন সিমন্স। পাশাপাশি চাপের মুখে উইকেটে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রথম টেস্টের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার বিষয়ে সিমন্স বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারেনি এবং সে দায় দলকেই নিতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো বোলিং করেছে, যা টেস্ট ক্রিকেটেরই অংশ। তাই ক্যারিবীয় বোলারদের বিপক্ষে রান বের করার কৌশল খুঁজে বের করার পাশাপাশি নিজেদের উইকেট রক্ষার দক্ষতাও বাড়াতে হবে। প্রথম টেস্টে এই দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

এখন সিলেট টেস্টে সেই ভুলগুলো শুধরে ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখানো সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারলে সিরিজের শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছেন কোচ ফিল সিমন্স।

বিষয় : বাংলাদেশ ক্রিকেট ফিল সিমন্স ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা সিমন্সের
0:00 0:00
1.0x
Sports Talk BD

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা সিমন্সের

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ডারউইনে সেই সাফল্যের পর থেকে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে না বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতায় ৮ উইকেটের বড় হার দেখতে হয়েছে টাইগারদের। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সেই মানে আবারও ফিরে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তাঁর মতে, অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করলেও ম্যাচে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন না ক্রিকেটাররা।


আগামীকাল সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে হেরে যাওয়ায় সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। সে জন্য ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামলাতে যেমন হিমশিম খেয়েছেন ব্যাটাররা, তেমনি ক্রিজে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতেও পারেননি তাঁরা।


সিমন্সের মতে, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ যে মানসিক দৃঢ়তা ও ব্যাটিং দক্ষতা দেখিয়েছিল, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শুধু টেস্ট ক্রিকেটেই নয়, অন্য ফরম্যাটেও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে।


এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ডারউইনের পর থেকে দল ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটাররা প্রমাণ করেছিলেন, প্রয়োজনীয় মানসিক দৃঢ়তা ও দক্ষতা থাকলে ভালো ব্যাটিং করা সম্ভব। কিন্তু এরপর যে ফরম্যাটেই খেলেছেন, সেখানে সেই মান ধরে রাখতে পারেননি তাঁরা।


ব্যাটিংয়ের এই সংকট কাটাতে অনুশীলনের ধরন বদলানোর প্রয়োজন দেখছেন না সিমন্স। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়া সফর কিংবা পাকিস্তান সিরিজের আগে ক্রিকেটাররা যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, এখনো একই নিষ্ঠা ও পরিশ্রম নিয়ে অনুশীলন করছেন। সমস্যা হচ্ছে, অনুশীলনে অর্জিত দক্ষতা ম্যাচের পরিস্থিতিতে কাজে লাগাতে পারছেন না তাঁরা। তাই মাঠের বাইরের প্রস্তুতিকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।


সিমন্সের ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ায় জয়ের মতো পারফরম্যান্স আবারও করা বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব কিছু নয়। ক্রিকেটাররা আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছেন। তবে ম্যাচে সেই পরিশ্রমের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।


মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতার দায়ও এড়িয়ে যেতে চান না বাংলাদেশ কোচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ভালো করেছেন, তা মেনে নিয়েও নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করছেন তিনি। প্রতিপক্ষের বোলিংকে অজুহাত না বানিয়ে কীভাবে তাদের মোকাবিলা করে রান করা যায়, সেটি খুঁজে বের করার ওপর জোর দিচ্ছেন সিমন্স। পাশাপাশি চাপের মুখে উইকেটে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।


প্রথম টেস্টের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার বিষয়ে সিমন্স বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারেনি এবং সে দায় দলকেই নিতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো বোলিং করেছে, যা টেস্ট ক্রিকেটেরই অংশ। তাই ক্যারিবীয় বোলারদের বিপক্ষে রান বের করার কৌশল খুঁজে বের করার পাশাপাশি নিজেদের উইকেট রক্ষার দক্ষতাও বাড়াতে হবে। প্রথম টেস্টে এই দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।


এখন সিলেট টেস্টে সেই ভুলগুলো শুধরে ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখানো সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারলে সিরিজের শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছেন কোচ ফিল সিমন্স।


Sports Talk BD


কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত Sports Talk BD