ঢাকা   রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
Sports Talk BD

মিরপুর টেস্টে হার, ব্যর্থতা নিয়ে যা বললেন শান্ত

মিরপুর টেস্টে হার, ব্যর্থতা নিয়ে যা বললেন শান্ত
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন শান্ত।

মিরপুর টেস্টে স্পিননির্ভর কৌশল সাজিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে স্পিনবান্ধব উইকেট তৈরি করলেও নিজেদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুর্বলতায় শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটের হার দেখতে হয়েছে স্বাগতিকদের। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি অন্যরা। দ্বিতীয় ইনিংসে তো আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। মাত্র ৩৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের লড়াকু হাফ সেঞ্চুরিতে ১৬৯ রানের লিড পায় টাইগাররা। তবে সেই লক্ষ্যও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারেননি বোলাররা। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ প্রত্যাশিত লাইন-লেংথ ধরে রাখতে পারেননি। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ মিসসহ ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুল বাংলাদেশের পরাজয়কে আরও সহজ করে দেয়।

দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা লুকাননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে পুরো ম্যাচের ব্যর্থতাকে আপাতত একটি খারাপ দিন হিসেবেই দেখছেন তিনি। ৮ উইকেটে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স। তিনটা ডিপার্টমেন্ট ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিংয়ে কেউই সেরাটা খেলতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’

দলের প্রস্তুতি কিংবা মানসিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না বলেও জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। তার মতে, সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও মাঠে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি। শান্তর ভাষায়, ‘ড্রেসিং রুম, প্রস্তুতি কিংবা আমাদের ইচ্ছে, সবই ভালো ছিল। খেলোয়াড়রা সবাই ভালো করতে চেয়েছে। আমার কাছে এটা স্রেফ একটা বাজে দিন। যেমনটা বললাম আমাদের তিনটা ডিপার্টমেন্ট ভালো করতে পারেনি, বিশেষ করে ফিল্ডিং। অনেক সময় এমনটা হয়।’

একসময় স্পিন খেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সুনাম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র বদলে গেছে। মানসম্পন্ন স্পিন আক্রমণের সামনে নিয়মিতই ভুগতে হচ্ছে তাদের। মিরপুর টেস্টেও রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। দুই স্পিনারের সামনে একের পর এক উইকেট হারানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচের মতো সফট ডিসমিসালও হয়েছে।

ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা ভালো ব্যাট করিনি, বিশেষ করে আমাদের শুরুটা খুবই বাজে ছিল। আমরা অনেকগুলো সফট ডিসমিসালে আউট হয়েছি। সামনের দিনে আমাদের এই জায়গাগুলোতে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি এই ধরনের কন্ডিশনে কীভাবে আমরা ভালো করতে পারি, সেটাও দেখতে হবে।’

ম্যাচে আম্পায়ার্স কলের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান না থাকলে এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে যায়। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কঠিন ক্যাচগুলো ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই, আপনার স্কোরবোর্ডে যখন যথেষ্ট রান থাকবে না, তখন এই ধরনের (আম্পায়ার্স কল) সিদ্ধান্তগুলো প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও আপনাকে বাড়তি এফোর্ট দিতে হবে, অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিতে হবে। এসব আপনাকেই করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সুযোগগুলো নিতে পারিনি। তবে ক্রিকেটে এমনটা হয়।’

বিষয় : ক্রিকেট নাজমুল হোসেন শান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিরপুর টেস্ট

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

মিরপুর টেস্টে হার, ব্যর্থতা নিয়ে যা বললেন শান্ত
0:00 0:00
1.0x
Sports Talk BD

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


মিরপুর টেস্টে হার, ব্যর্থতা নিয়ে যা বললেন শান্ত

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মিরপুর টেস্টে স্পিননির্ভর কৌশল সাজিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে স্পিনবান্ধব উইকেট তৈরি করলেও নিজেদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুর্বলতায় শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটের হার দেখতে হয়েছে স্বাগতিকদের। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি অন্যরা। দ্বিতীয় ইনিংসে তো আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। মাত্র ৩৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।


শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের লড়াকু হাফ সেঞ্চুরিতে ১৬৯ রানের লিড পায় টাইগাররা। তবে সেই লক্ষ্যও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারেননি বোলাররা। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ প্রত্যাশিত লাইন-লেংথ ধরে রাখতে পারেননি। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ মিসসহ ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুল বাংলাদেশের পরাজয়কে আরও সহজ করে দেয়।


দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা লুকাননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে পুরো ম্যাচের ব্যর্থতাকে আপাতত একটি খারাপ দিন হিসেবেই দেখছেন তিনি। ৮ উইকেটে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স। তিনটা ডিপার্টমেন্ট ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিংয়ে কেউই সেরাটা খেলতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’


দলের প্রস্তুতি কিংবা মানসিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না বলেও জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। তার মতে, সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও মাঠে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি। শান্তর ভাষায়, ‘ড্রেসিং রুম, প্রস্তুতি কিংবা আমাদের ইচ্ছে, সবই ভালো ছিল। খেলোয়াড়রা সবাই ভালো করতে চেয়েছে। আমার কাছে এটা স্রেফ একটা বাজে দিন। যেমনটা বললাম আমাদের তিনটা ডিপার্টমেন্ট ভালো করতে পারেনি, বিশেষ করে ফিল্ডিং। অনেক সময় এমনটা হয়।’


একসময় স্পিন খেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সুনাম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র বদলে গেছে। মানসম্পন্ন স্পিন আক্রমণের সামনে নিয়মিতই ভুগতে হচ্ছে তাদের। মিরপুর টেস্টেও রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। দুই স্পিনারের সামনে একের পর এক উইকেট হারানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচের মতো সফট ডিসমিসালও হয়েছে।


ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা ভালো ব্যাট করিনি, বিশেষ করে আমাদের শুরুটা খুবই বাজে ছিল। আমরা অনেকগুলো সফট ডিসমিসালে আউট হয়েছি। সামনের দিনে আমাদের এই জায়গাগুলোতে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি এই ধরনের কন্ডিশনে কীভাবে আমরা ভালো করতে পারি, সেটাও দেখতে হবে।’


ম্যাচে আম্পায়ার্স কলের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান না থাকলে এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে যায়। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কঠিন ক্যাচগুলো ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।


শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই, আপনার স্কোরবোর্ডে যখন যথেষ্ট রান থাকবে না, তখন এই ধরনের (আম্পায়ার্স কল) সিদ্ধান্তগুলো প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও আপনাকে বাড়তি এফোর্ট দিতে হবে, অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিতে হবে। এসব আপনাকেই করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সুযোগগুলো নিতে পারিনি। তবে ক্রিকেটে এমনটা হয়।’


Sports Talk BD


কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত Sports Talk BD