সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন হাসান মাহমুদ। নতুন বল হাতে নিয়েই ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামান এই পেসার। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে শিকার করেছেন ৬ উইকেট। এমনকি হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে হাসানের এই দুর্দান্ত বোলিং সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় সংগ্রহ গড়া থেকে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষদিকে লেজের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ৩৫০ ছাড়িয়ে যায় সফরকারীদের সংগ্রহ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছে স্বাগতিকরা।
চোটের কারণে সাদমান ইসলামকে হারিয়ে আগেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। তার অনুপস্থিতিতে ইনিংসের উদ্বোধনে নাঈম হাসানের সঙ্গে দেখা যায় তানজিদ হাসান তামিমকে। কিন্তু সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
ফিল্ডিংয়ের সময় গোড়ালিতে চোট পান সাদমান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার জায়গায় ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া নাঈম হাসান অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৬ বলে ৫ রান ছিল তার সংগ্রহ।
অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিমও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। গ্রিভসের ফুলার লেংথের বলে এগিয়ে এসে ড্রাইভ করতে গিয়ে কভারে কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন তিনি। ৩৩ বলে ১৬ রান করে থামে তার ইনিংস।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শামার জোসেফের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। ৬৫ বল মোকাবিলায় তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৮ রান। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে সামলানোর দায়িত্ব নেন মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়। দিনের শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে ১০৪ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়েছেন তারা।
এর আগে প্রথম দিনের ২৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুতে আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ১০৬ রানের জুটি বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই পরিস্থিতি বদলে দেন হাসান মাহমুদ। আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করে ভাঙেন গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি। ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২১২ বলে ১৩৩ রান করে বিদায় নেন জাঙ্গু। এরপর রস্টন চেজকে কোনো রান করার আগেই ফিরিয়ে দেন হাসান। পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন তিনি। পরের বলে জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউ করলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই ব্যাটার।
লাঞ্চের আগে জাস্টিন গ্রিভসকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অষ্টম উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১১২ বলে ৫১ রান করেন গ্রিভস। বিরতিতে যাওয়ার সময় ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৩২২ রান।
লাঞ্চের পরপরই শামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন হাসান। পরে জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিং করিয়ে ইনিংসে ষষ্ঠ শিকার পূর্ণ করেন এই পেসার। ২৫ বলে ২৩ রান করেন বিশপ। শেষ পর্যন্ত জেইডেন সিলসকে এলবিডব্লিউ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ। ৮২ রান খরচায় তার শিকার ২ উইকেট।
হাসানের ৬ উইকেটের দিনে বল হাতে বাংলাদেশের সাফল্য থাকলেও ব্যাটিংয়ে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি দল। দিন শেষে তাই স্বাগতিকদের সামনে বড় রানের পাহাড় টপকানোর চ্যালেঞ্জ।
বিষয় : বাংলাদেশ হাসান মাহমুদ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন হাসান মাহমুদ। নতুন বল হাতে নিয়েই ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামান এই পেসার। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে শিকার করেছেন ৬ উইকেট। এমনকি হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে হাসানের এই দুর্দান্ত বোলিং সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় সংগ্রহ গড়া থেকে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষদিকে লেজের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ৩৫০ ছাড়িয়ে যায় সফরকারীদের সংগ্রহ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছে স্বাগতিকরা।
চোটের কারণে সাদমান ইসলামকে হারিয়ে আগেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। তার অনুপস্থিতিতে ইনিংসের উদ্বোধনে নাঈম হাসানের সঙ্গে দেখা যায় তানজিদ হাসান তামিমকে। কিন্তু সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
ফিল্ডিংয়ের সময় গোড়ালিতে চোট পান সাদমান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার জায়গায় ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া নাঈম হাসান অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৬ বলে ৫ রান ছিল তার সংগ্রহ।
অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিমও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। গ্রিভসের ফুলার লেংথের বলে এগিয়ে এসে ড্রাইভ করতে গিয়ে কভারে কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন তিনি। ৩৩ বলে ১৬ রান করে থামে তার ইনিংস।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শামার জোসেফের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। ৬৫ বল মোকাবিলায় তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৮ রান। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে সামলানোর দায়িত্ব নেন মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়। দিনের শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে ১০৪ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়েছেন তারা।
এর আগে প্রথম দিনের ২৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুতে আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ১০৬ রানের জুটি বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই পরিস্থিতি বদলে দেন হাসান মাহমুদ। আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করে ভাঙেন গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি। ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২১২ বলে ১৩৩ রান করে বিদায় নেন জাঙ্গু। এরপর রস্টন চেজকে কোনো রান করার আগেই ফিরিয়ে দেন হাসান। পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন তিনি। পরের বলে জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউ করলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই ব্যাটার।
লাঞ্চের আগে জাস্টিন গ্রিভসকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অষ্টম উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১১২ বলে ৫১ রান করেন গ্রিভস। বিরতিতে যাওয়ার সময় ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৩২২ রান।
লাঞ্চের পরপরই শামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন হাসান। পরে জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিং করিয়ে ইনিংসে ষষ্ঠ শিকার পূর্ণ করেন এই পেসার। ২৫ বলে ২৩ রান করেন বিশপ। শেষ পর্যন্ত জেইডেন সিলসকে এলবিডব্লিউ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ। ৮২ রান খরচায় তার শিকার ২ উইকেট।
হাসানের ৬ উইকেটের দিনে বল হাতে বাংলাদেশের সাফল্য থাকলেও ব্যাটিংয়ে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি দল। দিন শেষে তাই স্বাগতিকদের সামনে বড় রানের পাহাড় টপকানোর চ্যালেঞ্জ।

মতামত