ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সেরা বিজয়ী কে, তা নির্ধারণে বিশেষ অনলাইন ভোটের আয়োজন করেছে পুরস্কারটির আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সেখানে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে ২০০৮ সালে রোনালদোর ব্যালন ডি’অর জয়ের মৌসুম। ওই বছরের পক্ষে পড়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট।
অক্টোবরের শুরুতে ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে এই ভোটিং কার্যক্রম শুরু হয়। প্যারিসের স্থানীয় সময় ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন সমর্থকেরা। ফুটবল ইতিহাসের ১০ কিংবদন্তির ব্যালন ডি’অরজয়ী বিভিন্ন মৌসুম থেকে পছন্দের একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এতে।
তালিকায় মেসি ও রোনালদোর পাশাপাশি আছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফান বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইন্ৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো।
তবে এই ভোটাভুটিতে অংশ নিতে প্রতিবার এক ইউরো খরচ করতে হচ্ছে সমর্থকদের। প্রতিটি ভোটের মাধ্যমে চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ট্রফির বিশেষ একটি ছবি ডাউনলোড করতে পারবেন ভোটাররা। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন, এমনকি একই মৌসুমের পক্ষেও বারবার ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে রোনালদোর প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের মৌসুমটি পেয়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে আরও চারবার এই পুরস্কার জিতে মোট পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী হন পর্তুগিজ তারকা।
অন্যদিকে, মেসির ২০১২ সালের অবিশ্বাস্য মৌসুমটি পেয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট। ওই বছর বার্সেলোনার হয়ে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। একই বছর টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের কীর্তিও গড়েন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর অষ্টমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। সে বছর পিএসজির হয়ে ৪১ ম্যাচে ২১ গোলের পাশাপাশি ২০টি অ্যাসিস্ট করেন মেসি। দলটির হয়ে জেতেন লিগ ওয়ান ও ফরাসি সুপার কাপ।
এ ছাড়া রোনালদোর ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের মৌসুমের পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রায় ২ শতাংশ সমর্থক। তালিকার অন্য মৌসুমগুলো এক শতাংশের বেশি ভোট পায়নি।
এদিকে, ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্যেও এগিয়ে চলেছেন দুই তারকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ হাজার ১৮০ ম্যাচে মেসির গোল ৯৩৬টি। অন্যদিকে, ১ হাজার ৩৪০ ম্যাচে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৮১।
সব মিলিয়ে ভোটের লড়াইয়ে আপাতত মেসির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রোনালদোর ২০০৮ সালের সাফল্য। তবে মেসির একাধিক ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়াও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শেষ হলে চূড়ান্ত চিত্র জানা যাবে।
বিষয় : ফুটবল ব্যালন ডি'আর

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সেরা বিজয়ী কে, তা নির্ধারণে বিশেষ অনলাইন ভোটের আয়োজন করেছে পুরস্কারটির আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সেখানে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে ২০০৮ সালে রোনালদোর ব্যালন ডি’অর জয়ের মৌসুম। ওই বছরের পক্ষে পড়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট।
অক্টোবরের শুরুতে ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে এই ভোটিং কার্যক্রম শুরু হয়। প্যারিসের স্থানীয় সময় ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন সমর্থকেরা। ফুটবল ইতিহাসের ১০ কিংবদন্তির ব্যালন ডি’অরজয়ী বিভিন্ন মৌসুম থেকে পছন্দের একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এতে।
তালিকায় মেসি ও রোনালদোর পাশাপাশি আছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফান বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইন্ৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো।
তবে এই ভোটাভুটিতে অংশ নিতে প্রতিবার এক ইউরো খরচ করতে হচ্ছে সমর্থকদের। প্রতিটি ভোটের মাধ্যমে চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ট্রফির বিশেষ একটি ছবি ডাউনলোড করতে পারবেন ভোটাররা। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন, এমনকি একই মৌসুমের পক্ষেও বারবার ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে রোনালদোর প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের মৌসুমটি পেয়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে আরও চারবার এই পুরস্কার জিতে মোট পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী হন পর্তুগিজ তারকা।
অন্যদিকে, মেসির ২০১২ সালের অবিশ্বাস্য মৌসুমটি পেয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট। ওই বছর বার্সেলোনার হয়ে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। একই বছর টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের কীর্তিও গড়েন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর অষ্টমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। সে বছর পিএসজির হয়ে ৪১ ম্যাচে ২১ গোলের পাশাপাশি ২০টি অ্যাসিস্ট করেন মেসি। দলটির হয়ে জেতেন লিগ ওয়ান ও ফরাসি সুপার কাপ।
এ ছাড়া রোনালদোর ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের মৌসুমের পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রায় ২ শতাংশ সমর্থক। তালিকার অন্য মৌসুমগুলো এক শতাংশের বেশি ভোট পায়নি।
এদিকে, ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্যেও এগিয়ে চলেছেন দুই তারকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ হাজার ১৮০ ম্যাচে মেসির গোল ৯৩৬টি। অন্যদিকে, ১ হাজার ৩৪০ ম্যাচে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৮১।
সব মিলিয়ে ভোটের লড়াইয়ে আপাতত মেসির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রোনালদোর ২০০৮ সালের সাফল্য। তবে মেসির একাধিক ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়াও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শেষ হলে চূড়ান্ত চিত্র জানা যাবে।

মতামত