মুমিনুল হকের চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দলে জায়গা পেয়েছেন তরুণ ব্যাটার অমিত হাসান। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে ফিরেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে এই সুযোগকে বাড়তি চাপ হিসেবে নিতে নারাজ তিনি। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে যে কৌশলে ব্যাটিং করে সফল হয়েছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান অমিত।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাথায় আঘাত পেয়ে কনকাশন সমস্যায় পড়েন মুমিনুল। নিয়ম অনুযায়ী, আঘাতের পর সাত দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না তিনি। ফলে আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দলের হয়ে মাঠে নামা হচ্ছে না অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের। তাঁর পরিবর্তে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অমিত হাসানকে।
এর আগে গত জুনে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল অমিতের। তবে এরপর আর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকায় আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ। জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে সিলেট বিভাগের হয়ে অপরাজিত ২০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
দলে ফেরার পর নিজের মানসিকতা সম্পর্কে অমিত জানিয়েছেন, এই সুযোগকে আলাদা কোনো চাপ হিসেবে দেখছেন না তিনি। নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চান। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘দলে ফেরাটা আমার কাছে মনে হয় বাড়তি কোনো চাপ না। আমি যেভাবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটটা খেলে আসছি, চেষ্টা করব সেরকমই যেন খেলতে পারি।’
মুমিনুলের অনুপস্থিতিতে একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা নিয়ে এখনই বাড়তি চিন্তা করতে চান না অমিত। সুযোগ পেলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনুসরণ করা ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনাই কাজে লাগাতে চান তিনি। এ বিষয়ে অমিত বলেন, ‘মুমিনুল ভাই তো দুর্ভাগ্যবশত মাথার আঘাতের কারণে নেই। আমার যদি সুযোগ আসে, আমি চেষ্টা করব প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে প্রক্রিয়ায় বা যেভাবে ক্রিকেটটা খেলে আসছি, সেটাই খেলার।’
ব্যাটিং অর্ডারে কোন অবস্থানে খেলবেন, তা নিয়েও নিজের পক্ষ থেকে কোনো শর্ত রাখতে চান না এই তরুণ। দলের প্রয়োজনে যেকোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত তিনি। দলীয় ব্যবস্থাপনা যে ভূমিকায় তাঁকে উপযুক্ত মনে করবে, সেভাবেই খেলতে চান অমিত।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। ব্যাটিংয়ের উন্নতি, অনুশীলন এবং ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করেন অমিত। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের খেলাকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান এই ব্যাটার।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেলে বড় কিছু করার বাড়তি তাড়না নয়, বরং নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাকেই পুঁজি করতে চান অমিত হাসান। এবার সেই আত্মবিশ্বাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজে লাগানোর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
বিষয় : অমিত হাসান মুমিনুল হক বাংলাদেশ ক্রিকেট

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মুমিনুল হকের চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দলে জায়গা পেয়েছেন তরুণ ব্যাটার অমিত হাসান। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে ফিরেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে এই সুযোগকে বাড়তি চাপ হিসেবে নিতে নারাজ তিনি। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে যে কৌশলে ব্যাটিং করে সফল হয়েছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান অমিত।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাথায় আঘাত পেয়ে কনকাশন সমস্যায় পড়েন মুমিনুল। নিয়ম অনুযায়ী, আঘাতের পর সাত দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না তিনি। ফলে আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দলের হয়ে মাঠে নামা হচ্ছে না অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের। তাঁর পরিবর্তে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অমিত হাসানকে।
এর আগে গত জুনে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল অমিতের। তবে এরপর আর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকায় আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ। জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে সিলেট বিভাগের হয়ে অপরাজিত ২০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
দলে ফেরার পর নিজের মানসিকতা সম্পর্কে অমিত জানিয়েছেন, এই সুযোগকে আলাদা কোনো চাপ হিসেবে দেখছেন না তিনি। নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চান। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘দলে ফেরাটা আমার কাছে মনে হয় বাড়তি কোনো চাপ না। আমি যেভাবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটটা খেলে আসছি, চেষ্টা করব সেরকমই যেন খেলতে পারি।’
মুমিনুলের অনুপস্থিতিতে একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা নিয়ে এখনই বাড়তি চিন্তা করতে চান না অমিত। সুযোগ পেলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনুসরণ করা ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনাই কাজে লাগাতে চান তিনি। এ বিষয়ে অমিত বলেন, ‘মুমিনুল ভাই তো দুর্ভাগ্যবশত মাথার আঘাতের কারণে নেই। আমার যদি সুযোগ আসে, আমি চেষ্টা করব প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে প্রক্রিয়ায় বা যেভাবে ক্রিকেটটা খেলে আসছি, সেটাই খেলার।’
ব্যাটিং অর্ডারে কোন অবস্থানে খেলবেন, তা নিয়েও নিজের পক্ষ থেকে কোনো শর্ত রাখতে চান না এই তরুণ। দলের প্রয়োজনে যেকোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত তিনি। দলীয় ব্যবস্থাপনা যে ভূমিকায় তাঁকে উপযুক্ত মনে করবে, সেভাবেই খেলতে চান অমিত।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। ব্যাটিংয়ের উন্নতি, অনুশীলন এবং ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করেন অমিত। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের খেলাকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান এই ব্যাটার।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেলে বড় কিছু করার বাড়তি তাড়না নয়, বরং নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাকেই পুঁজি করতে চান অমিত হাসান। এবার সেই আত্মবিশ্বাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজে লাগানোর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

মতামত