ঢাকা   রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
Sports Talk BD

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ঘরের মাঠে স্পিননির্ভর উইকেট তৈরি করেও ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ। বরং নিজেদের তৈরি উইকেটেই বিপাকে পড়েছে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন আক্রমণে দুই ইনিংসেই ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। ফলে মিরপুরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের পরাজয় দিয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। বৃষ্টি, বজ্রপাত ও আলোকস্বল্পতার কারণে ম্যাচে একাধিকবার বিঘ্ন ঘটলেও চতুর্থ দিনেই জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।

জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতেই ১১২ রান যোগ করেন জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ন চন্দরপল। ৫৫ বলে ৪৯ রান করা ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। এরপর চন্দরপলকে (১) ফেরান হাসান মাহমুদ। তবে বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন ব্র্যান্ডন কিং ও কাভেম হজ। ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন কিং। অন্যদিকে ২৭ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন হজ।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাঈম হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই স্পিনার।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৭৯ রান। চতুর্থ দিনে দ্রুত উইকেট হারানোর শঙ্কা থাকলেও জাকের আলির কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। তবে ২২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এরপর একপ্রান্তে অবিচল থেকে লড়াই চালিয়ে যান নাঈম। শেষ পর্যন্ত ৯১ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫২ রান করে রস্টন চেজের বলে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও নাঈম।

এর আগে টেস্টে নাঈমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল অপরাজিত ৩৫ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে সেই ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবার প্রথম ইনিংসে বল হাতে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দলের বিপদের দিনে দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দিলেন ডানহাতি এই স্পিনার।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ২৭২ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৪৮.৪ ওভার স্থায়ী এই ইনিংসে ক্যারিবীয়দের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক রস্টন চেজ। তিনি শিকার করেন পাঁচ উইকেট। জোমেল ওয়ারিক্যান নেন চার উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি চেজের পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কীর্তি।

সব মিলিয়ে নিজেদের মাঠে স্পিনের সুবিধা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো প্রতিপক্ষের স্পিন আক্রমণেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৮ উইকেটের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের।

বিষয় : মিরপুর টেস্ট বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাঈম হাসান ক্রিকেট স্কোর টেস্ট সিরিজ ক্যাম্পবেল ব্র্যান্ডন কিং

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
0:00 0:00
1.0x
Sports Talk BD

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঘরের মাঠে স্পিননির্ভর উইকেট তৈরি করেও ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ। বরং নিজেদের তৈরি উইকেটেই বিপাকে পড়েছে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন আক্রমণে দুই ইনিংসেই ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। ফলে মিরপুরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের পরাজয় দিয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। বৃষ্টি, বজ্রপাত ও আলোকস্বল্পতার কারণে ম্যাচে একাধিকবার বিঘ্ন ঘটলেও চতুর্থ দিনেই জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।


জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতেই ১১২ রান যোগ করেন জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ন চন্দরপল। ৫৫ বলে ৪৯ রান করা ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। এরপর চন্দরপলকে (১) ফেরান হাসান মাহমুদ। তবে বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন ব্র্যান্ডন কিং ও কাভেম হজ। ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন কিং। অন্যদিকে ২৭ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন হজ।


এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাঈম হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই স্পিনার।


তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৭৯ রান। চতুর্থ দিনে দ্রুত উইকেট হারানোর শঙ্কা থাকলেও জাকের আলির কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। তবে ২২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এরপর একপ্রান্তে অবিচল থেকে লড়াই চালিয়ে যান নাঈম। শেষ পর্যন্ত ৯১ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫২ রান করে রস্টন চেজের বলে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও নাঈম।


এর আগে টেস্টে নাঈমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল অপরাজিত ৩৫ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে সেই ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবার প্রথম ইনিংসে বল হাতে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দলের বিপদের দিনে দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দিলেন ডানহাতি এই স্পিনার।


ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ২৭২ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৪৮.৪ ওভার স্থায়ী এই ইনিংসে ক্যারিবীয়দের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক রস্টন চেজ। তিনি শিকার করেন পাঁচ উইকেট। জোমেল ওয়ারিক্যান নেন চার উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি চেজের পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কীর্তি।


সব মিলিয়ে নিজেদের মাঠে স্পিনের সুবিধা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো প্রতিপক্ষের স্পিন আক্রমণেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৮ উইকেটের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের।


Sports Talk BD


কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত Sports Talk BD