ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Sports Talk BD

স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়েও সুবিধা নিতে পারল না বাংলাদেশ

স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়েও সুবিধা নিতে পারল না বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। সে অনুযায়ী মিরপুরে তৈরি করা হয় স্পিনবান্ধব উইকেট। কিন্তু নিজেদের পরিকল্পনাতেই যেন আটকে গেল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিলেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। শেষ পর্যন্ত আট উইকেটের হার দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ। এখন প্রশ্ন, স্পিন উইকেট তৈরি করে কি নিজেরাই বিপদ ডেকে এনেছে বাংলাদেশ?

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্পিন দিয়ে পরাস্ত করার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং স্পিনে প্রতিপক্ষের কাছেই পিছিয়ে পড়েছে স্বাগতিকরা।

মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের দাপট ছিল স্পষ্ট। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক জোমেল ওয়ারিক্যান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামান অধিনায়ক রোস্টন চেজ। অফ স্পিনে পাঁচ উইকেট নিয়ে জয়ের পথ সহজ করে দেন তিনি। এরপর অনায়াসেই লক্ষ্য পূরণ করে ক্যারিবীয়রা।

পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের স্পিনারদের ব্যর্থতার চিত্র। দুই দলের স্পিনারদের মধ্যে বল বেশি ঘুরিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। ক্যারিবীয়দের গড় টার্ন ছিল ৩.৫ ডিগ্রি, আর বাংলাদেশের স্পিনারদের ৩ ডিগ্রি।

মিরপুরে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটেছে, যখন তৃতীয় কিংবা চতুর্থ ইনিংসে অন্তত ২৫ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেট পাননি দেশের স্পিনাররা। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনারদের উইকেট ছিল ৮টি। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা নিয়েছেন ১৬ উইকেট। ওয়ারিক্যান ও চেজ দুজনই পেয়েছেন পাঁচ উইকেট।

১১৬ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়ারিক্যান। তবে তার পারফরম্যান্সের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, কাউকে ছোট করার চেষ্টা করছি না। তবে আমার মনে হয়েছে তার বোলিংয়ের মানের চেয়ে আমাদের বাজে ব্যাটিংই বেশি ভূমিকা রেখেছে। কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমরা তাঁকে আরও ভালোভাবে খেলতে পারতাম।’

উইকেটের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরে পেসারদের জন্যও সহায়ক উইকেট দেখা গেলেও এবারের টেস্টে স্পিনারদের সুবিধা বেশি ছিল। শান্ত জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন দুর্বলতার কথা মাথায় রেখেই উইকেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তার ভাষায়, ‘প্রতিপক্ষের শক্তি এবং তাদের দুর্বলতা বিবেচনা করেই কন্ডিশন তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম দুই দিনের উইকেট দেখলে মনে হবে, সেটি আসলে বেশ ভালো ছিল। ভালো শুরুর পরও আমরা যেভাবে ব্যাটিং করার কথা ছিল, করতে পারিনি। বিশেষ করে শুরুর পর আমরা ভালো ব্যাটিং করতে ব্যর্থ হয়েছি।’

ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা তাইজুল ইসলামের ফর্ম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। চার টেস্টে তার উইকেট মাত্র পাঁচটি, যার দুটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। স্পিন সহায়ক মিরপুরের উইকেটেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ৩৮.১ ওভার বোলিং করে নিয়েছেন মাত্র ২ উইকেট, খরচ করেছেন ১৩০ রান।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের স্পিনারদের আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা প্রতিপক্ষের জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারছেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেসাররা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে সাফল্য এনে দিয়েছেন। এমন অবস্থায় পেসারদের ওপর নির্ভর না করে স্পিনকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।

বিষয় : ক্রিকেট বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ ক্রিকেট স্পিন উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়েও সুবিধা নিতে পারল না বাংলাদেশ
0:00 0:00
1.0x
Sports Talk BD

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়েও সুবিধা নিতে পারল না বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। সে অনুযায়ী মিরপুরে তৈরি করা হয় স্পিনবান্ধব উইকেট। কিন্তু নিজেদের পরিকল্পনাতেই যেন আটকে গেল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিলেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। শেষ পর্যন্ত আট উইকেটের হার দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ। এখন প্রশ্ন, স্পিন উইকেট তৈরি করে কি নিজেরাই বিপদ ডেকে এনেছে বাংলাদেশ?


বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্পিন দিয়ে পরাস্ত করার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং স্পিনে প্রতিপক্ষের কাছেই পিছিয়ে পড়েছে স্বাগতিকরা।


মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের দাপট ছিল স্পষ্ট। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক জোমেল ওয়ারিক্যান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামান অধিনায়ক রোস্টন চেজ। অফ স্পিনে পাঁচ উইকেট নিয়ে জয়ের পথ সহজ করে দেন তিনি। এরপর অনায়াসেই লক্ষ্য পূরণ করে ক্যারিবীয়রা।


পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের স্পিনারদের ব্যর্থতার চিত্র। দুই দলের স্পিনারদের মধ্যে বল বেশি ঘুরিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। ক্যারিবীয়দের গড় টার্ন ছিল ৩.৫ ডিগ্রি, আর বাংলাদেশের স্পিনারদের ৩ ডিগ্রি।


মিরপুরে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটেছে, যখন তৃতীয় কিংবা চতুর্থ ইনিংসে অন্তত ২৫ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেট পাননি দেশের স্পিনাররা। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনারদের উইকেট ছিল ৮টি। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা নিয়েছেন ১৬ উইকেট। ওয়ারিক্যান ও চেজ দুজনই পেয়েছেন পাঁচ উইকেট।


১১৬ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়ারিক্যান। তবে তার পারফরম্যান্সের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, কাউকে ছোট করার চেষ্টা করছি না। তবে আমার মনে হয়েছে তার বোলিংয়ের মানের চেয়ে আমাদের বাজে ব্যাটিংই বেশি ভূমিকা রেখেছে। কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমরা তাঁকে আরও ভালোভাবে খেলতে পারতাম।’


উইকেটের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরে পেসারদের জন্যও সহায়ক উইকেট দেখা গেলেও এবারের টেস্টে স্পিনারদের সুবিধা বেশি ছিল। শান্ত জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন দুর্বলতার কথা মাথায় রেখেই উইকেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


তার ভাষায়, ‘প্রতিপক্ষের শক্তি এবং তাদের দুর্বলতা বিবেচনা করেই কন্ডিশন তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম দুই দিনের উইকেট দেখলে মনে হবে, সেটি আসলে বেশ ভালো ছিল। ভালো শুরুর পরও আমরা যেভাবে ব্যাটিং করার কথা ছিল, করতে পারিনি। বিশেষ করে শুরুর পর আমরা ভালো ব্যাটিং করতে ব্যর্থ হয়েছি।’


ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা তাইজুল ইসলামের ফর্ম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। চার টেস্টে তার উইকেট মাত্র পাঁচটি, যার দুটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। স্পিন সহায়ক মিরপুরের উইকেটেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ৩৮.১ ওভার বোলিং করে নিয়েছেন মাত্র ২ উইকেট, খরচ করেছেন ১৩০ রান।


এ অবস্থায় বাংলাদেশের স্পিনারদের আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা প্রতিপক্ষের জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারছেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেসাররা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে সাফল্য এনে দিয়েছেন। এমন অবস্থায় পেসারদের ওপর নির্ভর না করে স্পিনকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।


Sports Talk BD


কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত Sports Talk BD